থানকুনি পাতার ব্যবহারিতা এবং উপকারিতা।

থানকুনি

থানকুনি গাছ আমরা সবাই চিনি। থানকুনি গাছ ঔষধি গাছ লাগানোর বেশ পরিচিত। এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম centella asiatica । ইংরেজিতে এই গাছ কে  centella বা Indian penrywort ও বলা হয়।

থানকুনি গাছ ওষধি গাছ হিসাবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি এর বিশেষ কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়।

রান্না করে অথবা কাঁচা অবস্থায় এই পাতা খাওয়া যায় এবং এর থেকে দারুন উপকারিতা মেলে।

প্রাচীন আয়ুর্বেদা শাস্ত্রে থানকুনি পাতার উল্লেখ পাওয়া যায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই পাতার গুরুত্ব অসামান্য। এই গাছ সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকায় জলভূমির পাশে থাকা আদিবাসীরা সাধারণত এর রস থেকে চা অথবা শাক হিসেবে খেয়ে থাকে।।

থানকুনি পাতায় থাকা অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, Anti diabetic, আন্টি ইনফ্লেমেটরি এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

থানকুনি পাতা থেকে তৈরি ক্যাপসুল বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

থানকুনি পাতার ব্যবহারিতা:- 

থানকুনি পাতার ব্যবহার বিশেষ উল্লেখযোগ্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। এর ঔষধি গুনাগুন বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করে খেলে এই পাত ার গুণগত মান নষ্ট হয় না।

  • শরীরের দাদ এর মত সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য থানকুনি পাতার গুরুত্ব অপরিসীম।
  • শরীরে কেটে যাওয়া স্থানে অথবা গভীর ক্ষত হওয়া জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধে তাড়াতাড়ি সহায়তা করে।
  • গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা দারুন উপকার দেয়।
  • থানকুনি পাতা মানসিক উদ্দিগ কমাতে সহায়তা করে।
  • হাঁপানি কমাতে বা রোধ করতে সহায়তা করে।
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ কমায় অথবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকলে থানকুনি পাতা খাওয়ার ফলে উপকার পাওয়া যায়।
  • ডায়রিয়া হলে থানকুনি পাতা বাটা অথবা থানকুনি পাতা সেদ্ধ খেলে ডায়রিয়া থেকে সহজে নিরাময় পাওয়া যায়।
  • মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি ভাব দূর করতে সহায়তা করে
  • পেটের বদহজম বা গ্যাস থেকে মুক্তি দেয়।
  • পেটে আলসার হলে থানকুনি পাতা খেলে তা থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।

এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কিছু থানকুনি পাতার ব্যবহারিক দিক নিচে উল্লেখ করা হলো:-

১. মেজাজ ও স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে থানকুনি পাতার প্রয়োজনীয়তা:- 

মেজাজ হালকা করতে অথবা মানসিক শান্তি বজায় রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে থানকুনি পাতার গুরুত্ব অপরিসীম।

দীর্ঘদিন ধরে থানকুনি পাতা খাওয়ার ফলে দারুন ফল পাওয়া যায়। থানকুনি পাতার ভেতর থাকা ঔষধি গুনাগুন বিভিন্ন রোগ যেমন বিষণ্ণতা অনিদ্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রান্তি থেকে মুক্তি দেয়।

রক্ত সঞ্চালনের সহায়তা করে:- 

বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে আমাদের শরীরে থাকা শিরায় রক্ত চলাচল সচল রাখতে থানকুনি পাতার গুরুত্ব অপরিসীম।

 জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে:- 

থানকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি এবং সামগ্রিক জ্ঞানী ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আলঝেইমার রোগের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা থেকে বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়।

২০১৬ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায় যে স্ট্রোকের ফলে জ্ঞানী ও ক্ষমতার যে অবনতি ঘটে তা থানকুনি পাতার ভেতর থাকা ফলিক অ্যাসিড এবং নির্যাস এর প্রভাবে তুলনামূলক কম করা যায়।

থানকুনি

ক্ষত নিরাময়ের সহায়তা করে:- 

শরীরে কোন ক্ষত সৃষ্টি হলে থানকুনি পাতার থাকা ভেষজ ঔষধ ক্ষত নিরাময়ের সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:-

থানকুনি পাতা কুষ্ঠ রোগ এবং ক্যান্সারের মতো চিকিৎসার ক্ষেত্রে দারুন উপকার দিয়ে থাকে এমন অনেকে দাবি অনেক বিজ্ঞানী দাবি করে থাকে । এছাড়া এর ভিজোষী গুনাগুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ায়।

পেটের রোগ নিরাময়ের সহায়তা করে:- 

যে সমস্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত পেটের সমস্যায় ভোগে তাদের প্রতিদিন অন্তত একটি করে  থানকুনি পাতা খাওয়া অত্যন্ত দরকার। এই পাতা সকাল বেলা খালি পেটে চিবিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।  অন্যান্য:- 

  1. থানকুনি পাতা আলসার একজিমা হাঁপানি এবং চর্মরোগ দূর করতে দারুন সহযোগিতা করে। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে এই সমস্ত রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।
  2. ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এবং ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে থানকুনি পাতা দারুন ফল দেয়।
  3. দাঁতের ব্যথা এবং দাঁতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করত থানকুনি পাতা ভালো ফল দেয়।
  4. যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে অথবা চুল পড়ার সমস্যা প্রবল তারা থানকুনি পাতার রস রোজ মাথায় লাগালে নতুন চুল গজায়। গোড়া মজবুত হয়।চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছায়।
  5. সমস্ত ব্যক্তি অনেকদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না তারা সকাল বিকেল থানকুনি পাতার রস খেলে ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই করতে পারে।

 থানকুনি

 

 

 

1 Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: